ENGLISH / বাংলা

কখনো কখনো আমার কাছে ব্যাপারটা অদ্ভুত লাগে। আমরা একজন মানুষকে কীভাবে দেখি, সেটা ঠিক করার আগেই আমরা ঠিক করে ফেলি সে আসলে কী।

সে কোন ধর্মের?

কোন দেশের?

কোন রাজনৈতিক দলের?

কোন মতাদর্শের?

কোন শ্রেণির?

কোন পক্ষের?

তারপর, সব পরিচয়ের অনেক নিচে গিয়ে, একটা খুব সাধারণ সত্যি পড়ে থাকে।

সে একজন মানুষ।

আমি এই কথাটা ধর্মের বিরুদ্ধে বলছি না। বরং ঠিক তার উল্টোটা। ধর্ম কোটি কোটি মানুষকে অর্থ, নৈতিকতা, দায়িত্ব, ভালোবাসা, সংযম আর আশ্রয়ের একটা কাঠামো দিয়েছে। দর্শনও দিয়েছে। পরিবার দিয়েছে। সংস্কৃতি দিয়েছে। দেশ দিয়েছে। রাজনৈতিক আদর্শও অনেক মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস দিয়েছে।

এসবই আমাদের পরিচয়ের অংশ।

কিন্তু কখনো কখনো মনে হয়, আমরা পরিচয়গুলোকে এত শক্ত করে ধরে রাখি যে পরিচয়ের ভেতরে থাকা মানুষটাকেই ভুলে যাই।

হয়তো সবচেয়ে বড় বিশ্বাসটা এমন কোনো জিনিসে বিশ্বাস করা নয়, যা আমাদের আলাদা করে।

বরং এমন কিছুকে মনে রাখা, যা আমাদের মানুষ করে।

এই চিন্তাটা অনেক দিন ধরে আমার মাথায় ঘুরছে।

যে পরিচয়টা আমরা সবচেয়ে সহজে ভুলে যাই

সক্রেটিসের একটা জিনিস আমার বেশ ভালো লাগে। তিনি এমন সব প্রশ্ন করতেন, যেসব প্রশ্নের উত্তর মানুষ ধরে নিয়েছিল তারা আগে থেকেই জানে।

ন্যায় কী?

ভালো মানুষ কাকে বলে?

কীভাবে বাঁচা উচিত?

হয়তো দর্শনের সবচেয়ে সুন্দর দিকটাই এটা। এটা আমাদের একটু থামায়।

আমাদের বলে, যে জিনিসটা আমরা সত্যি বলে ধরে নিয়েছি, সেটাও একবার খুলে দেখো।

আমাদের প্রথম পরিচয়গুলো আমরা নিজেরা বেছে নিই না।

আমরা জন্মাই, তারপর পরিচয়গুলো আমাদের কাছে আসতে থাকে।

আমার পরিবার কোন ধর্মের, আমি কোন দেশের নাগরিক, আমার প্রথম ভাষা কী, আমার চারপাশের মানুষ কী বিশ্বাস করে, আমি কোন সংস্কৃতির মধ্যে বড় হচ্ছি। এসবের প্রায় কিছুই আমি ছোটবেলায় ঠিক করিনি।

পরে আমরা কিছু পরিচয় নিজের মতো করে গ্রহণ করি। কিছু বদলাই। কিছু প্রত্যাখ্যান করি।

কিন্তু শুরুটা আমাদের হাতে থাকে না।

তবু অদ্ভুতভাবে আমরা অনেক সময় এই পরিচয়গুলোকে এমনভাবে দেখি, যেন এগুলো একজন মানুষের পুরো চরিত্রের সংজ্ঞা।

সমস্যাটা হয়তো সেখানেই।

আমি তোমার রাজনীতির সঙ্গে একমত নাও হতে পারি, কিন্তু তাই বলে তোমাকে খারাপ মানুষ মনে করতেই হবে এমন তো না।

আমি তোমার ধর্ম মানি না, কিন্তু তাই বলে তোমার জীবনের মূল্য আমার জীবনের চেয়ে কম হয়ে যায় না।

আমি তোমার কোনো একটা ধারণাকে ঘৃণা করতে পারি, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তোমাকেও ঘৃণা করতে হবে।

কাগজে লিখলে এগুলো খুবই সহজ মনে হয়।

বাস্তবে?

ভীষণ কঠিন।

মানুষ দলবদ্ধ হতে ভালোবাসে। Aristotle মানুষকে সামাজিক প্রাণী হিসেবে দেখেছিলেন। কথাটা আজও খুব সত্যি লাগে।

আমরা belong করতে চাই।

আমরা জানতে চাই, “আমার লোক কারা?”

“আমার পক্ষ কোনটা?”

“কে আমার সঙ্গে?”

সমস্যা belonging এ না।

সমস্যা তখন শুরু হয়, যখন আমার দলে থাকতে হলে অন্য কাউকে “ওরা” বানাতে হয়।

আমরা এত সহজে ভাগ হয়ে যাই কেন?

একটা সাধারণ আড্ডার কথা ভাবো।

সবাই হাসছে, গল্প করছে, একজন আরেকজনকে নিয়ে ঠাট্টা করছে।

তারপর হঠাৎ রাজনীতি চলে এলো।

কেউ বলল সে একটা নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে।

হঠাৎ মানুষটার আগের সব গুণ যেন একটু ছোট হয়ে গেল।

যে মানুষটা একটু আগেই মজার একটা গল্প বলছিল, যে হয়তো তোমার পাশে বসে চা খাচ্ছিল, যে হয়তো নিজের পরিবারকে খুব ভালোবাসে, যে হয়তো কারও খারাপ সময়ে পাশে দাঁড়ায়। এখন সে শুধু “ওই দলের লোক”।

ধর্মের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার হয়।

জাতীয়তার ক্ষেত্রেও।

মতাদর্শের ক্ষেত্রেও।

এমনকি ফুটবল দল নিয়েও।

আমরা একজন মানুষকে একটা category তে ভরে ফেলি, তারপর মনে করি আমরা তাকে বুঝে ফেলেছি।

কিন্তু একটা label একজন মানুষের একটা অংশকে বর্ণনা করতে পারে।

পুরো মানুষটাকে কখনোই না।

Nietzsche এর একটা বড় শিক্ষা আমার কাছে এখানেই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বারবার প্রশ্ন তুলেছেন, আমরা আসলে কী বিশ্বাস করি, আর কতটা শুধু উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া মূল্যবোধকে সত্যি বলে মেনে নিয়েছি?

তাই মাঝে মাঝে নিজেকেই প্রশ্ন করা দরকার।

আমি আসলে কী বিশ্বাস করি?

কেন বিশ্বাস করি?

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটা হয়তো এই।

আমার বিশ্বাস আমাকে কেমন মানুষ বানাচ্ছে?

এই প্রশ্নটা আমার কাছে দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কারণ, আমি নিশ্চিত যে আমি ঠিক, এটা আর আমি ভালো মানুষ, এটা এক জিনিস না।

পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক মানুষ নিজেদের ঠিক মনে করে ভয়ংকর কাজ করেছে।

শুধু নিশ্চিত হওয়া কাউকে দয়ালু বানায় না।

বিশ্বাস আর আচরণ এক জিনিস নয়

আমার কাছে একটা পার্থক্য খুব interesting লাগে।

একজন মানুষ খুব সুন্দর সুন্দর নীতি বিশ্বাস করতে পারে, কিন্তু আচরণে ভয়ংকর হতে পারে।

কেউ প্রতিদিন নৈতিকতার কথা বলতে পারে, অথচ অন্য মানুষকে অপমান করতে পারে।

কেউ ভালোবাসার কথা বলতে পারে, অথচ নিজের কাছের মানুষকেই ভীষণ কষ্ট দিতে পারে।

কেউ ন্যায়ের পক্ষে বড় বড় কথা বলতে পারে, কিন্তু যখন সত্যি কারও পাশে দাঁড়ানোর সময় আসে তখন চুপ হয়ে যেতে পারে।

আবার উল্টো ঘটনাও আছে।

কেউ হয়তো নিজের বিশ্বাসকে দর্শনের ভাষায় ব্যাখ্যাই করতে পারে না, কিন্তু এমন একটা কাজ করে বসে যা তোমাকে চুপ করিয়ে দেয়।

রাস্তায় পড়ে থাকা অচেনা মানুষকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

কারও খাবারের বিল quietly দিয়ে চলে যায়।

কেউ খুব কষ্টে আছে বুঝে তাকে জিজ্ঞেস করে, “তুই ঠিক আছিস তো?”

কাউকে নিয়ে সবাই হাসছে দেখে সে হাসে না।

এমন কাজের কোনো headline হয় না।

কোনো বড় বক্তৃতাও লাগে না।

কিন্তু সেখানেই হয়তো চরিত্রটা তৈরি হয়।

Kant বলেছিলেন, মানুষকে যেন শুধু কোনো লক্ষ্য অর্জনের উপায় হিসেবে না দেখা হয়। মানুষকে নিজের মধ্যেই একটা মূল্য হিসেবে দেখতে হয়।

সহজ ভাষায় বললে, মানুষ কোনো tool না।

কেউ তোমার ভোট না। কেউ তোমার statistic না। কেউ শুধু তোমার political enemy না।

কেউ তোমার লাভের একটা মাধ্যমও না।

আর কেউ শুধু এমন একটা label না, যেটা দেখেই তার পুরো মূল্য ঠিক করে দেওয়া যায়।

একজন মানুষকে যখন শুধু তার পরিচয়ে নামিয়ে আনি, তখন তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটাই হয়তো হারিয়ে ফেলি।

দূরের মানুষের কষ্টও কেন আমাদের ছুঁয়ে যায়?

আজকের পৃথিবীর একটা অদ্ভুত ব্যাপার হলো, অন্য প্রান্তের কষ্টও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আমাদের ঘরে পৌঁছে যায়।

তুমি ফোন খুললে দেখতে পারো, কোনো একটা দেশে একটা পরিবার তাদের ভেঙে যাওয়া বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

কোনো শিশু কাঁদছে।

কেউ নিজের প্রিয় মানুষকে হারিয়েছে।

কেউ যুদ্ধ থেকে পালাচ্ছে।

কেউ হয়তো এমন একটা দেশে বাস করে, যেখানে তুমি কোনোদিন যাওনি।

তুমি তার নাম জানো না।

তার ইতিহাস জানো না।

তার দেশের রাজনীতি জানো না।

হয়তো তার সমাজের অনেক বিশ্বাসের সঙ্গেই তুমি একমত নও।

তবুও ভেতর থেকে একটা কথা আসে।

এটা ওর সঙ্গে হওয়া উচিত না।

কেন?

হয়তো কারণ ideology এর নিচে একটা recognition আছে।

আমি তোমার ভয়টা বুঝি।

আমি তোমার দুঃখটা বুঝি।

আমি জানি প্রিয় কাউকে হারানো কেমন।

আমি জানি নিজের আপন মানুষকে বাঁচাতে চাওয়ার অর্থ কী।

হঠাৎ দূরত্বটা ছোট হয়ে যায়।

Carl Sagan মানুষের অস্তিত্বের ভঙ্গুরতা আর একসঙ্গে এই পৃথিবীতে থাকার ব্যাপারটা নিয়ে অনেক ভেবেছিলেন। মহাবিশ্বের তুলনায় আমরা কত ছোট, সেটা ভাবলে অবাক লাগে।

এত বিশাল একটা universe এর মধ্যে একটা ছোট্ট গ্রহ।

আর সেই গ্রহের মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঝগড়া করছে সীমান্ত নিয়ে, পরিচয় নিয়ে, ধর্ম নিয়ে, ক্ষমতা নিয়ে।

তবুও একটা ব্যাপার অস্বীকার করা যায় না।

আমাদের পার্থক্য আছে।

খুব বড় পার্থক্যও আছে।

কিন্তু সেই পার্থক্য আমাদের vulnerability মুছে দেয় না।

যে মানুষটা তোমার মতো ভাবে না, সেও বিশ্বাসঘাতকতার কষ্ট পায়।

সেও কাউকে ভালোবাসে।

সেও একা লাগে।

সেও ভয় পায়।

সেও রাত জেগে নিজের জীবন নিয়ে ভাবে।

সেও আগামীকালটা ভালো হবে, এমন আশা করতে পারে।

এই common ground এর মধ্যে অদ্ভুত একটা পবিত্রতা আছে।

সহানুভূতির জন্য একমত হওয়া লাগে না

আমার মনে হয় humanity কে বোঝার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর একটা হলো এটা।

সহানুভূতি দেখাতে হলে সব বিষয়ে একমত হতে হয় না।

তোমার সঙ্গে একমত না হয়েও আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি।

তোমার ধর্ম আমার ধর্ম না হয়েও আমি তোমার সম্মানটাকে সম্মান করতে পারি।

তোমার রাজনীতি আমার রাজনীতি না হয়েও আমি চাইতে পারি তুমি নিরাপদ থাকো।

তোমার পরিচয়ের সবকিছু আমি না বুঝেও বুঝতে পারি যে তুমি একজন মানুষ।

শুনতে খুব সাধারণ।

কিন্তু যদি মানুষ সত্যি এটা মেনে চলত, পৃথিবীর অনেক কিছুই অন্যরকম হতো।

আমরা disagreement করতে পারতাম, dehumanize না করে।

তর্ক করতে পারতাম, অপমান না করে।

তুমি বলতে পারতে, “আমি মনে করি তুমি সম্পূর্ণ ভুল।”

আর একইসঙ্গে বলতে পারতে, “কিন্তু আমি চাই না তুমি কষ্ট পাও।”

এটা অনেক কঠিন নৈতিকতা।

কারণ এখানে শুধু নিজের side বেছে নিলেই হয় না।

এখানে নিজের রাগের মাঝেও অন্য মানুষের humanity কে ধরে রাখতে হয়।

Camus মানুষের suffering আর absurdity নিয়ে অনেক লিখেছেন। জীবন সবসময় ন্যায্য না, সব কিছুর পরিষ্কার অর্থও হয়তো থাকে না। কিন্তু সেই অনিশ্চয়তার মাঝেও আমরা একে অপরের প্রতি কীভাবে আচরণ করব, সেটার একটা দায়িত্ব থেকেই যায়।

হয়তো এই প্রশ্নটাই সত্যি সবার।

জীবন যতই অগোছালো হোক, আমি আরেকজন মানুষের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করব?

আলাদা আলাদা ধর্ম, কিন্তু কিছু জায়গায় মিল

আমি কখনোই মনে করি না যে পৃথিবীর সব ধর্ম আসলে একই কথা বলে।

এটা বলা খুবই সহজ, কিন্তু সত্যি নয়।

প্রতিটা ধর্মের নিজস্ব ইতিহাস আছে, নিজস্ব theology আছে, নিজস্ব দার্শনিক ভিত্তি আছে।

তবুও তাদের মধ্যে কিছু জায়গায় একধরনের conversation সম্ভব।

বৌদ্ধধর্মের বিভিন্ন ধারায় compassion বা করুণার ব্যাপারটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামে mercy, charity, justice, responsibility এসবের ওপর গভীর জোর আছে।

খ্রিস্টধর্মে neighbour এর প্রতি ভালোবাসা নৈতিকতার কেন্দ্রীয় জায়গা দখল করে আছে।

হিন্দু দর্শনের বিভিন্ন ধারায় interconnectedness এবং নিজের সীমিত সত্তার বাইরে যাওয়ার চিন্তা পাওয়া যায়।

এগুলো এক জিনিস না।

এগুলোকে জোর করে একই বানানোরও দরকার নেই।

কিন্তু তারা একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে পারে।

একটা জায়গায় এসে দেখা করতে পারে।

অন্য মানুষকে তুমি কীভাবে treat করছ, সেটা গুরুত্বপূর্ণ।

Rabindranath Tagore এর humanism এর এই দিকটা আমার খুব ভালো লাগে।

মানুষকে শুধু জাতি, রাষ্ট্র, গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান বা কোনো narrow identity এর মধ্যে আটকে না দেখে, মানুষ হিসেবে দেখার একটা প্রবল আকাঙ্ক্ষা তার চিন্তার মধ্যে ছিল।

ভাবতে ভালো লাগে যে এই চিন্তাটা একদম নতুন কিছু না।

শুধু হয়তো আমরা বারবার ভুলে যাই।

হয়তো ভবিষ্যতের জন্য আমাদের সবাইকে একই রকম হয়ে যেতে হবে না।

হয়তো আমাদের শুধু এতটুকু শিখতে হবে যে পার্থক্য মানেই ঘৃণা না।

যখন একটা ধারণা একজন মানুষের চেয়ে বড় হয়ে যায়

আমার কাছে এই জায়গাটা সবচেয়ে ভয়ংকর।

একসময় একটা idea মানুষের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যেতে পারে।

একটা রাজনৈতিক ideology একজন প্রতিবেশীর চেয়েও বড় হয়ে যেতে পারে।

একটা জাতীয় পরিচয় একজন অপরিচিত মানুষের চেয়েও বড় হয়ে যেতে পারে।

একটা ধর্মীয় argument একজন মানুষের dignity এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যেতে পারে।

তখন সমস্যা কোথায়?

সবসময় বিশ্বাসটার মধ্যে না।

অনেক সময় সমস্যাটা আমাদের মধ্যে।

আমরা একটা abstraction কে এত বড় করে ফেলেছি যে সামনে থাকা মানুষটার চেয়েও সেটাকে বেশি real মনে হচ্ছে।

মানুষের একটা অদ্ভুত স্বভাব আছে।

আমরা concept ভালোবাসি।

কারণ concept clean।

মানুষ clean না।

মানুষ contradictory।

একই মানুষ একদিন তোমাকে কষ্ট দিতে পারে, আর আরেকদিন তোমাকে নিজের সবচেয়ে জরুরি মুহূর্তে বাঁচিয়ে দিতে পারে।

একটা political category রাত তিনটায় জেগে বসে নিজের জীবন নিয়ে ভাবে না।

একটা ideology কাউকে miss করে না।

একটা nation কাউকে হারিয়ে কাঁদে না।

মানুষ কাঁদে।

মানুষ অপেক্ষা করে।

মানুষ হারায়।

মানুষ ভালোবাসে।

আর হয়তো সেখানেই humanity সব label এর চেয়ে বড়।

সব বিষয়ে একমত না হয়েও কি নৈতিক হওয়া যায়?

আমার মনে হয়, অবশ্যই।

আমরা কখনোই সব বিষয়ে একমত হবো না।

হয়তো হওয়াও উচিত না।

Disagreement খারাপ কিছু না।

দর্শনের জন্মই হয়েছে প্রশ্ন থেকে।

Socrates certainty কে প্রশ্ন করেছেন।

Nietzsche inherited morality কে প্রশ্ন করেছেন।

Marcus Aurelius বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, অন্য মানুষও আমাদের মতোই একটা common human community এর অংশ, আর তাদের সঙ্গে আমরা কীভাবে আচরণ করি সেটা আমাদের নিজেদের চরিত্রেরও অংশ।

তাই বিষয়টা disagreement মুছে ফেলা না।

বিষয়টা একটা line টেনে দেওয়া।

Disagreement একদিকে।

Dehumanization অন্যদিকে।

আমি ভাবতে পারি তুমি ভুল।

তুমিও ভাবতে পারো আমি ভুল।

আমরা চাইলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তর্ক করতে পারি।

কিন্তু তর্ক শেষ হওয়ার পরও আমার সামনে একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। এই সত্যিটা যেন হারিয়ে না যায়।

হয়তো নৈতিকতা সেখান থেকেই শুরু। সব বিষয়ে একমত হওয়া থেকে নয়, বরং ভিন্নমত পোষণ করেও অন্য মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে পারা থেকে।

Humanity কোনো পরিচয়ের replacement না

“মানবতাই সবচেয়ে বড় ধর্ম” এই কথাটাকে আমি আক্ষরিক অর্থে বলছি না।

আমি বলছি না যে ধর্ম বাদ দিতে হবে।

সংস্কৃতি বাদ দিতে হবে।

দেশ বাদ দিতে হবে।

রাজনীতি বাদ দিতে হবে।

দর্শন বাদ দিতে হবে।

নিজের identity বাদ দিতে হবে।

বরং সেটা করলে আমরা হয়তো আরেকটা নতুন ideology বানিয়ে ফেলব।

আরেকটা label।

আমি যেটা বলতে চাই, সেটা একটু অন্যরকম।

Humanity এগুলোর নিচের common ground হতে পারে।

তুমি খুব religious হতে পারো এবং একইসঙ্গে খুব human হতে পারো।

তুমি খুব patriotic হতে পারো এবং একইসঙ্গে খুব human হতে পারো।

তুমি খুব রাজনৈতিক হতে পারো, কিন্তু তারপরও তোমার বিরোধী মানুষটাকে মানুষ হিসেবে দেখতে পারো।

তোমার বিশ্বাস শক্ত হতে পারে, কিন্তু তোমার আচরণ নরম হতে পারে।

Identity আমাদের বলে, “আমি কে?”

Humanity আমাদের মনে করিয়ে দেয়, “আমার মতো না হলেও, এই মানুষটার প্রতি আমার কী দায়িত্ব?”

হয়তো এই দুইটা কখনো একে অপরের শত্রু ছিল না।

আমরাই তাদের শত্রু বানিয়েছি।

সবচেয়ে ছোট কাজগুলো হয়তো সবচেয়ে বড়

কখনো কখনো মনে হয়, humanity কে আমরা খুব বড় করে ফেলি।

Peace।

Justice।

Civilization।

Global cooperation।

History।

কিন্তু humanity অনেক ছোটও।

একজন stranger তোমার কিছু পড়ে যেতে দেখে দৌড়ে এসে সেটা ফিরিয়ে দেয়।

একজন বন্ধু বুঝতে পারে তুমি ঠিক নেই, তাই হঠাৎ জিজ্ঞেস করে, “কী হয়েছে?”

কেউ বাসে বা ট্রেনে নিজের জায়গাটা ছেড়ে দেয়।

কেউ তোমার কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত interrupt করে না।

কেউ সবাই মিলে যখন একজনকে নিয়ে হাসছে তখন হাসে না।

কেউ এমন একজন মানুষের কাছে বসে থাকে যার পাশে বসার মতো আর কেউ নেই।

কেউ তোমার নামটা মনে রাখে।

কেউ চাইলে তোমার দিনটা খারাপ করে দিতে পারে, কিন্তু করে না।

এই ছোট ছোট সিদ্ধান্তগুলোর কোনো headline হয় না।

কেউ এগুলোর জন্য পুরস্কার দেয় না।

কেউ social media তে পোস্টও করে না।

হয়তো সেই কারণেই এগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ।

যে kindness এর জন্য audience লাগে, সেটা অনেক সময় performance।

কেউ না দেখেও যে kindness করা যায়, হয়তো সেটাই character।

আমি বারবার একই জায়গায় ফিরে আসি

সময় যত যাচ্ছে, আমি তত কম interested হচ্ছি কোন group পুরোপুরি right আর কোন group পুরোপুরি wrong সেটা প্রমাণ করতে।

তার চেয়ে একটা কঠিন প্রশ্ন আমাকে বেশি ভাবায়।

আমরা কীভাবে নিজেদের বিশ্বাসে দৃঢ় থাকতে পারি, কিন্তু নিষ্ঠুর না হয়ে?

আমরা কীভাবে নিজের values defend করতে পারি, কিন্তু অন্য সবাইকে worthless না ভেবে?

আমরা কীভাবে নিজের মানুষকে ভালোবাসতে পারি, কিন্তু অন্য কারও মানুষকে ঘৃণা করা না শিখে?

আমরা কীভাবে নিজেদের পরিচয় ধরে রাখতে পারি, কিন্তু সেই পরিচয়ের ভেতর বন্দী না হয়ে?

আমার কাছে এর perfect answer নেই।

সত্যি বলতে, কারও আছে কিনা তাও জানি না।

হয়তো উত্তর পাওয়ার চেয়ে প্রশ্নটা বাঁচিয়ে রাখাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ নিজের দিকে তাকানো বন্ধ হয়ে গেলে মানুষ খুব সহজেই নিজের কাজকে justify করতে শুরু করে।

কারও বিশ্বাস কী, সেটা জিজ্ঞেস করার আগে হয়তো জিজ্ঞেস করা উচিত, আমি তার সঙ্গে কেমন আচরণ করছি।

কোন side এ সে, সেটা জানার আগে হয়তো জিজ্ঞেস করা উচিত, সে কষ্টে আছে কিনা।

সে “আমাদের লোক” কিনা, সেটা ভাবার আগে হয়তো মনে রাখা উচিত, সে কখনোই humanity এর বাইরে ছিল না।

আমরাও ছিলাম না।

কখনো না।

আমরা সবাই কোনো এক সময় অসহায় ছিলাম।

কেউ জন্মের সময় নিজের পরিচয় নিয়ে আসেনি।

সবাই শিখেছে।

সবাই ভুল করেছে।

সবাই কোনো না কোনো সময় ভালোবাসা চেয়েছে।

সবাই চেয়েছে কেউ তাকে বুঝুক।

হয়তো humanity ই আমাদের সবচেয়ে পুরোনো common ground।

আর হয়তো সেটাই আমরা সবচেয়ে সহজে ভুলে যাই।

একজন মানুষকে যখন দেখা বন্ধ করে শুধু তার label টাকে দেখতে শুরু করি, তখন আমাদের ভেতরেও কিছু একটা মানুষ থাকা বন্ধ করে দেয়।

আমি মনে করি না humanity মানে সবার সঙ্গে একমত হওয়া।

আমি মনে করি না humanity মানে সবসময় ভালো মানুষ সেজে থাকা।

এর মানে আরও কঠিন কিছু।

এর মানে হলো, প্রতিটা belief এর পেছনে একজন মানুষ আছে, এটা মনে রাখা।

প্রতিটা argument এর পেছনে একটা জীবন আছে, এটা মনে রাখা।

প্রতিটা identity এর ভেতরে এমন একজন মানুষ আছে, যে কষ্ট পেতে পারে, এটা মনে রাখা।

আমরা তর্ক করব।

আমরা পক্ষ নেব।

আমরা ধর্ম মানব।

দেশকে ভালোবাসব।

নিজেদের ideology থাকবে।

নিজেদের community থাকবে।

এসব থাকবে।

এগুলোও তো মানব জীবনের অংশ।

কিন্তু সব কিছুর নিচে আরও শান্ত একটা জিনিস থাকবে।

আমাদের border এর চেয়েও পুরোনো।

আমাদের ideology এর চেয়েও fragile।

একজন মানুষ আরেকজন মানুষের দিকে তাকিয়ে আছে।

হয়তো morality সেখান থেকেই শুরু হয়।

হয়তো compassion ও।

আর হয়তো সবশেষে, আমরা কী বিশ্বাস করি, কোন side এ আছি, কাকে নিজের মানুষ মনে করি, এসবের আগে একটা কথাই মনে রাখা দরকার।

আমরা এখানে একসঙ্গে আছি।

আর পৃথিবী আমাদের যত পরিচয়ই দিক না কেন, শেষ পর্যন্ত যেন আমরা একে অপরের কাছে মানুষ হওয়াটা ভুলে না যাই।